মোঃ আব্দুর রাজ্জাকফুলবাড়ী
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধরলা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নদীভাঙনকবলিত এলাকার শত শত মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনে বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলার ৪ নম্বর বড়ভিটা ইউনিয়নের ১ নম্বর চর মেখলী ওয়ার্ডে স্থানীয় জনগণের আয়োজনে এবং অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রামের সহযোগিতায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা জানান, ধরলা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ইতোমধ্যে তাদের বসতভিটা, আবাদি জমিসহ শত শত বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকা নদীভাঙনের কবলে পড়ছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে অবশিষ্ট ঘরবাড়ি ও সম্পদও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
বক্তারা বলেন, ধরলা নদীর তীরবর্তী লালমনিরহাট জেলা ও কুড়িগ্রামের অন্যান্য উপজেলায় নদীভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ফুলবাড়ী উপজেলার চর মেখলীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে দিন দিন নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। এ বৈষম্য দূর করে জরুরি ভিত্তিতে ধরলা নদীর তীর রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।
অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রামের প্রতিনিধি সীমা খাতুন বলেন, “চর মেখলী দীর্ঘদিনের অবহেলিত একটি এলাকা। নদীভাঙনের কারণে এখানকার মানুষ প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের জানমাল ও সম্পদ রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।”
১ নম্বর চর মেখলী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইলিয়াস আলী বলেন, “নির্বাচনের সময় এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পরও আমার ওয়ার্ডের শত শত বিঘা জমি ধরলা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগের পাশাপাশি একাধিকবার মানববন্ধন করা হয়েছে। তারপরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত চর মেখলীর মানুষের দুর্দশা নিরসনে প্রশাসন ও সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নদীভাঙন ঠেকাতে সাময়িক ব্যবস্থা নয়, দ্রুত টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে চর মেখলীসহ ধরলা নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষের জানমাল ও সম্পদ রক্ষা করতে হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন