নয়ন হোসেনঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আলোচনা সামনে আসার পর ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি রাষ্ট্রপতি হলে আসনটি শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—এমন আলোচনা থেকেই এখন তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, কে হবেন এ আসনের পরবর্তী প্রার্থী।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই মির্জা পরিবারের প্রভাব রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক পথচলা শুরু পৌর চেয়ারম্যান হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন (চখা মিয়া)ও ছিলেন পৌর মেয়র, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী। এবার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন। দীর্ঘদিন জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী তাকে এগিয়ে রাখছেন।
অন্যদিকে আলোচনায় রয়েছেন মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা। চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক শামারুহ মির্জা গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবার পক্ষে ভোটের মাঠে সক্রিয় ছিলেন। ফলে বাবার অনুপস্থিতিতে তিনিও সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন—এমন আলোচনা রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন—সবখানেই এখন ঘুরছে একই প্রশ্ন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন কে জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুন উর রশিদ বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে, নেতাকর্মীরা তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন এবং উপনির্বাচন হলে আরও বেশি ভোটে বিজয়ের আশা রয়েছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, জেলায় বিএনপির মধ্যে কোনো গ্রুপিং বা বিভক্তি নেই। দলের মনোনয়ন বোর্ড যাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবে, তিনিই দলের প্রার্থী হবেন। তার বিজয়ের জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, তাদের পরিবার ব্রিটিশ আমল থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বাবা জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন এবং তার বড় ভাইও জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনিও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের অনেকেই তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান। আবার কেউ কেউ তার ভাতিজি শামারুহ মির্জাকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। তবে দলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, দল যোগ্যতার ভিত্তিতে যাকেই মনোনয়ন দেবে, জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে তিনি তার জন্যই কাজ করবেন। তবে শেষ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নির্ভর করছে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও মনোনয়ন বোর্ডের ওপর। এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আগ্রহও বাড়ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন