মোঃ খাইরুল ইসলামনিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী পৃথক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে হেরোইন ও বিদেশি মদসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর থেকে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত আশুলিয়ার ডেন্ডাবর ও বিশমাইল এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন নরসিংদীর রায়পুরা থানার কালিকাপুর এলাকার নির্মল কুমার ভৌমিকের ছেলে পলাশ কুমার ভৌমিক (৩০), কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের আটিপাড়া (পাঠানবাড়ি) এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (২০), আশুলিয়ার ডেন্ডাবর উত্তরপাড়া এলাকার আইয়ুব আলীর মেয়ে সুমনা আক্তার (৩০), নওগাঁর আত্রাই থানার তেগুর এলাকার মজনুর ছেলে মো. রাব্বি (২৫), রাণীনগর থানার সিলমাদার এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. সোহেল রানা (৩০), একই থানার কাকড়াশীন এলাকার শাহজাহানের ছেলে মো. রকি (২৫) এবং রাণীনগর থানার কালীগ্রাম সরদারপাড়া এলাকার মোজাহারের ছেলে মো. মিজান (৩২)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে আশুলিয়ার ডেন্ডাবর উত্তরপাড়ায় অভিযান পরিচালনা করেন থানার এসআই ছাইয়েদুল ইসলাম। এ সময় পলাশ কুমার ভৌমিক, মো. আব্দুল্লাহ ও সুমনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২৭ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হেরোইনের আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য ৮ হাজার ১০০ টাকা।
অন্যদিকে, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিশমাইল এলাকায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক গেটের পূর্ব পাশে অভিযান চালান আশুলিয়া থানার এসআই ভজন চন্দ্র রায়। এ সময় মো. রাব্বি, মো. সোহেল রানা, মো. রকি ও মো. মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে এক লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য ১০ হাজার টাকা। আশুলিয়ায় পুলিশের ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযানে বিভিন্ন সময়ে ইয়াবা, গাঁজা ও হেরোইন উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও মাদকের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু খুচরা বিক্রেতা বা বাহকদের গ্রেপ্তার নয়, মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা গেলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর হবে।
আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, পিপিএম বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানা পুলিশের অবস্থান কঠোর। মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী কিংবা এর সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান জোরদারের পাশাপাশি মাদকের মূল উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা শনাক্তে কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, আশুলিয়াকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ কাজে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সাতজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়। মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, পিপিএম।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন