মোঃ খাইরুল ইসলামনিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ এবং তরুণ সমাজ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় একাট্টা হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামের ভেকু মার্কেট এলাকায় তারুণ্যের ঐক্য ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে শ্রীপুর-গফরগাঁও আঞ্চলিক সড়কে ঘণ্টাব্যাপী এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দল-মত নির্বিশেষে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাদকের ভয়াবহতা দিন দিন সমাজে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরা বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং এলাকায় মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তারুণ্যের ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. মারুফ হোসেন বলেন, বর্তমান সময়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও মাদকের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, এলাকায় কোনোভাবেই মাদক ব্যবসা বা মাদকসেবন বরদাশ্ত করা হবে না এবং এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ আরও জোরদার করা হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা আতাউর রহমান আতা ও এমদাদ হোসেন মণ্ডল। তারা মাদক ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমাজের সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে মোবাশ্বের জুয়েল বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনসম্মত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মানববন্ধনে স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জসিম উদ্দিন দাদন মীর, সংরক্ষিত নারী সদস্য পারভীন আক্তার নিশিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে মাদকবিরোধী এ সামাজিক আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
কর্মসূচি থেকে বক্তারা সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং তরুণ প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।