কামাল সিকদার,ঝালকাঠি,
ঝালকাঠির রাজাপুরে মাদকবিরোধী পৃথক দুটি অভিযানে উপজেলা যুবদল নেতার ছেলেসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৬০ গ্রাম গাঁজা ও চার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বড় কৈবর্তখালী ও গালুয়া ইউনিয়নের কানুদাসকাঠি এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, রাজাপুর সদর ইউনিয়নের বড় কৈবর্তখালী এলাকার উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম ওরফে জাকির মোল্লার ছেলে মো. মাহমুদুল হাসান ওরফে লিমন মোল্লা (২২), একই এলাকার মো. মোশারেফ সিকদারের ছেলে মো. রিয়াজুল ইসলাম হৃদয় (২০) এবং গালুয়া ইউনিয়নের কানুদাসকাঠি এলাকার মো. মোশারেফ শরীফের ছেলে মো. আলী হোসেন শরীফ (১৯)
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজাপুর সদর ইউনিয়নের বড় কৈবর্তখালী এলাকার গাজীবাড়ি এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মাহমুদুল হাসান ওরফে লিমন মোল্লা ও রিয়াজুল ইসলাম হৃদয়কে আটক করা হয়। পরে গালুয়া ইউনিয়নের কানুদাসকাঠি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলী হোসেন শরীফকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, পৃথক অভিযানে আটক তিনজনের কাছ থেকে ৬০ গ্রাম গাঁজা ও চার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও দাবি পুলিশের।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, আটক মাহমুদুল হাসান ওরফে লিমন মোল্লা আগে থেকেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বাবা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসা চালানোর অভিযোগও করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় মাদক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনজন আটক হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় মাদকের বিস্তার কমার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।
রাজাপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. ফিরোজ কামাল বলেন, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে তাদের ঝালকাঠি আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন