মোঃ আমিনুল ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টার:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কবর খুঁড়ে কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শ্রী শামীমের দেহাবশেষ তুলে তার প্রতিষ্ঠিত দরবার শরিফে নিয়ে পুনরায় দাফনের ঘটনায় লালা প্রামাণিক (৪২) নামে এক ভক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে লালা প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত মেছের প্রামাণিকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থান থেকে আব্দুর রহমান ওরফে শ্রী শামীমের দেহাবশেষ তুলে নেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে ওই এলাকাটি ‘৫০০ বিঘা মাঠ’ নামে পরিচিত। পরে দেহাবশেষগুলো তার প্রতিষ্ঠিত ‘শামিম বাবার দরবার শরিফে’ নিয়ে গিয়ে সেখানে নতুন করে দাফন করা হয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কবরটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী দরবার শরিফ প্রাঙ্গণে খোঁড়া নতুন কবর থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। একই দিন বিকেল ৪টার দিকে উদ্ধার করা দেহাবশেষগুলো পুনরায় উপজেলার ‘৫০০ বিঘা মাঠ’ এলাকার পূর্বের কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় মামলা দায়েরের পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে কথিত পীরের ভক্ত লালা প্রামাণিকের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায় পুলিশ। এর ভিত্তিতে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে ওই পীরের এক ভক্তের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন