প্রতিনিধি: আশরাফুল সরদারসিংড়া (নাটোর)
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নাটোরের সিংড়ায় বিলদহর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩০০ শিক্ষার্থীর মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিলদহর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বৃক্ষরোপণ উৎসবের আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন থেকে বরাদ্দ পাওয়া এসব চারা ৫ নম্বর চামারী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম সরদারের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা চারার মধ্যে ছিল নিম, পেয়ারা, জাম, কাঁঠাল, হরতকি, বহেরা ও মেহগনিসহ বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুমার কুন্ডু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল খালেক বিশ্বাস এবং সিংড়া গোল-ই-আফরোজ সরকারি কলেজের সাধারণ সম্পাদক হাসানুল হক হাসান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ৫ নম্বর চামারী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহসভাপতি হারুনুর রশিদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব রওশন আরাফিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলহাজ্ব নূরনবী ফারুক তারা। পরে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন। বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই, ইউএনও। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই গাছ লাগানো ও পরিচর্যার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আজকের একটি চারা আগামী দিনের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব নূরনবী ফারুক তারা বলেন, গাছ আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ। নতুন প্রজন্মের মধ্যে বৃক্ষরোপণের আগ্রহ ও পরিবেশ সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, লাগানো গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম সরদার বলেন, শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার সচেতনতা তৈরি করা গেলে এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া যাবে। প্রতিটি শিক্ষার্থী অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার যত্ন নেবে এবং অন্যদেরও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ও সবুজায়ন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন