কামাল সিকদারজেলা প্রতিনিধি, ঝালকাঠি
কাঠালিয়ায় আওড়াবুনিয়া ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার ৬নং আওড়াবুনিয়া ভূমি অফিসের তহশিলদার নাসিরুদ্দিনের বিরুদ্ধে জমির পর্চা উত্তোলনসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারীদের দাবি, জমির পর্চা উত্তোলনের সরকারি নির্ধারিত ফি ১০ টাকা হলেও বিভিন্ন অজুহাতে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাজার হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগী শাজাহান হাওলাদারের অভিযোগ, নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে তহশিলদার নাসিরুদ্দিন তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে তার নামজারি সম্পন্ন করা হয়নি। এছাড়া পর্চা উত্তোলনের জন্যও তার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, ভূমি অফিসে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গেলে সরকারি নির্ধারিত ফির পাশাপাশি অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না চাইলে কাজ বিলম্বিত করা কিংবা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি নির্ধারিত ফি যেখানে মাত্র ১০ টাকা, সেখানে সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ কেন উঠছে? অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে, সেই অর্থের হিসাব কী এবং তা কোথায় যাচ্ছে—এ বিষয়টিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তদন্তের দাবি ভুক্তভোগীরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষের হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি সেবার নির্ধারিত ফি প্রকাশ্যে প্রদর্শন, অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ রসিদ প্রদান এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।
তহশিলদারের বক্তব্য, অভিযোগের বিষয়ে তহশিলদার নাসিরুদ্দিনের বক্তব্য জানতে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি এ বিষয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে এড়িয়ে যান এবং কোনো বক্তব্য দেননি। প্রতিবেদনটি ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন