নয়ন হোসেনঠাকুরগাঁও,
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের অংশ হিসেবে সরবরাহ করা প্যাকেটজাত দুধ পান করে ৩৪ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার মধুপুর (১), মধ্য গোয়ালকারী ও তুলশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা জানায়, ‘আরডি ইউএইচটি মিল্ক’ পান করার পর তাদের পেটে ব্যথা, বমি ও বমি বমি ভাব শুরু হয়। কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়েই বমি করে। পরে অসুস্থদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের ভর্তি করেন। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার নিশাত রায় জানান, সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৩৪ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগেরই বমি ও পেটব্যথার উপসর্গ রয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন।
মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার জানায়, দুধ পান করার পর কয়েকজন শিক্ষার্থীর পেটে ব্যথা শুরু হয় এবং কেউ কেউ বমি করে। তার দাবি, দুধের স্বাদ তিতা ছিল এবং নষ্ট মনে হলেও তা পান করতে বলা হয়। একই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীম হাসান জানায়, দুধ পান করার পর থেকেই তার পেটে ব্যথা ও বমি বমি ভাব শুরু হয়েছে। মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিকা দেবনাথের বাবা মানিক দেবনাথ বলেন, মেয়ের পেটে ব্যথা শুরু হলে প্রথমে তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের দেওয়ার আগে দুধের মান যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহিল সাফি বলেন, ছুটিতে থাকায় তিনি বিদ্যালয়ে ছিলেন না। দিনাজপুরে যাওয়ার পথে খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন। ওই সময় সহকারী শিক্ষক ফেরদৌসী বেগম দায়িত্বে ছিলেন। প্যাকেটজাত অবস্থায় থাকায় দুধ দেখে কোনো সমস্যা বোঝা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে বিদ্যালয় ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায়। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, শিক্ষার্থীরা বর্তমানে ভালো আছে। কী কারণে তারা অসুস্থ হয়েছে এবং কোন খাবার থেকে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস জানান, মিড ডে মিলের অবশিষ্ট খাবার জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্যাকেটজাত দুধ সরবরাহ করে রংপুর ডেইরি ফুড অ্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ‘আরডি ইউএইচটি মিল্ক’ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা আবু রিয়াল বলেন, আগের দিন বিদ্যালয়গুলোতে দুধ সরবরাহ করা হয়েছিল এবং পরদিন শিক্ষার্থীদের তা খাওয়ার কথা ছিল। অন্যান্য বিদ্যালয়ে দুধ পান করে কোনো সমস্যা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ওই তিনটি বিদ্যালয়ে কেন এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে দুধ ও অবশিষ্ট খাবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন