মোঃ খাইরুল ইসলামনিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ২ নম্বর গাজীপুর ইউনিয়নের নগর হাওলা গ্রামে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে মাদক কারবারিরা কৌশল পরিবর্তন করে এখন ‘হোম ডেলিভারি’র মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্র ও সম্প্রতি আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানা যায়, নগর হাওলা গ্রামেই অন্তত ১২ জন চিহ্নিত মাদক কারবারি সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের মাধ্যমে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের কারবার পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে মাদক কারবারিরা নিজেদের বাড়ি বা নির্দিষ্ট স্থানে বসে মাদক বিক্রি করলেও বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এড়াতে মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন সরবরাহকারীর মাধ্যমে গোপনে ক্রেতাদের কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
মাদকের বিস্তার ঠেকাতে সম্প্রতি স্থানীয় যুবসমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নগর হাওলা এলাকায় শ্রীপুর থানা পুলিশ ও স্থানীয় ছাত্রদল কর্মী নাঈম শেখের নেতৃত্বে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানা গেছে।
অভিযানকালে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় হেরোইনসহ কয়েকজন মাদকসেবীকে আটক করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক সেবনের একটি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম, ৫০টির বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারি ও অপরাধী তাদের আস্তানা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
এলাকার সচেতন যুবসমাজ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, মাদকের কারণে স্থানীয় তরুণ সমাজের একটি অংশ বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। মাদক কারবারিরা কৌশল পরিবর্তন করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদকের সরবরাহের উৎস ও রুট শনাক্ত করে স্থায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
শ্রীপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। নগর হাওলা গ্রামসহ শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন