২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশজুড়ে চলা গণআন্দোলনের সময় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা গুলশান ও বনানীতে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করে আলোচনায় আসেন ছাত্রনেতা ইয়াসিন আহমেদ। আন্দোলন-সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকা মহানগর উত্তর এলাকায় সংগঠিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি আন্দোলনকে সংগঠিত করতে ভূমিকা রাখে।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ইয়াসিন আহমেদ ওই সময় ঢাকা মহানগর উত্তরের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সে সময় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। পাশাপাশি নানা বিধিনিষেধের কারণে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পরিচালনাও সহজ ছিল না।
এর মধ্যেই গুলশান ও বনানী এলাকায় সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেন ইয়াসিন। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, তাঁর নেতৃত্বে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন এবং নিজেদের দাবি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।মাঠে সক্রিয়, প্রচারে অনাগ্রহ আন্দোলন-সংশ্লিষ্টদের দাবি, রাজপথে সক্রিয় থাকলেও নিজের ভূমিকা নিয়ে প্রচার চালানোর ক্ষেত্রে ইয়াসিন ছিলেন অনেকটাই নীরব। তাঁদের বক্তব্য, আন্দোলনের সময় তিনি সংগঠনের কাজ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
এক আন্দোলনকারীর ভাষ্য, ইয়াসিনের কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং আন্দোলনকে সংগঠিত করা। ব্যক্তিগত পরিচিতি বা প্রচারের চেয়ে মাঠের কাজকেই তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে তাঁর সহকর্মীদের দাবি।
গুলশান-বনানীর কর্মসূচি কেন আলোচনায় আন্দোলনকারীদের মতে, গুলশান ও বনানী রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়ায় সেখানে প্রকাশ্য প্রতিবাদ কর্মসূচি পরিচালনা করা ছিল তুলনামূলক কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে সংগঠিতভাবে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পরিচালনা আন্দোলনকারীদের জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
তাঁদের দাবি, ইয়াসিন আহমেদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনের বার্তা ওই এলাকার মানুষের কাছেও পৌঁছে যায়। এতে স্থানীয়ভাবে সাধারণ মানুষের একটি অংশ আন্দোলনের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে বলেও তাঁরা জানান।
আন্দোলন-সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনে ঢাকা মহানগর উত্তরের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে গুলশান-বনানীর এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা। তাঁদের মতে, ওই সময়ে ইয়াসিন আহমেদের সাংগঠনিক ভূমিকা এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা আন্দোলনের স্থানীয় পরিসরে স্মরণযোগ্য হয়ে রয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন