রিমন হোসেনসৌদি আরব প্রতিনিধি
ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভনে সৌদি আরবে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপনের অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজারের এক নারী প্রবাসীর। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করানো, ওভারটাইমের সুবিধা না দেওয়া, অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা না করা এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী রোজিনা আক্তার।
বর্তমানে কফিলের (নিয়োগকর্তা) বাসায় অনেকটা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। দেশে ফিরে আসার আকুতি জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ওই নারী।
ভুক্তভোগী রোজিনা আক্তারের স্থায়ী ঠিকানা মৌলভীবাজারের বুদ্ধিমন্তপুর এলাকায় বলে জানা গেছে।
ভালো কাজের আশায় সৌদি যাত্রাপরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানো ও উন্নত জীবনের আশায় প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি জমান রোজিনা আক্তার। তার অভিযোগ, স্থানীয় ‘রতন এয়ার সার্ভিস’-এর মালিক রতন দেব তাকে খাদ্দামা (গৃহকর্মী) ভিসায় সৌদি আরবে পাঠান।
তবে সৌদি আরবে যাওয়ার পর দালাল ও কফিলের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কোনো মিল পাননি বলে দাবি করেন রোজিনা। প্রতিদিন ১৫ ঘণ্টা কাজ করার অভিযোগ রোজিনা আক্তারের অভিযোগ, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর থেকেই তাকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ ঘণ্টা করে কাজ করতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় কাজ করলেও অতিরিক্ত কাজের জন্য কোনো ওভারটাইম সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। টানা পরিশ্রমের কারণে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। চিকিৎসার কথা বললে কফিল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং চিকিৎসার ব্যয়ও তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি তার।
অসুস্থ অবস্থাতেও তাকে কাজে বাধ্য করা এবং কাজে সামান্য বিরতি নিলে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।দেশে ফেরার আকুতি, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযোগ
অসহনীয় হয়ে পড়লে দেশে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন রোজিনা। তার অভিযোগ, দেশে ফেরার ব্যবস্থা করার পরিবর্তে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ইন্টারনেট সংযোগও মাঝে মাঝে বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ অবস্থায় সৌদি আরবে তাকে পাঠানো দালাল রতন দেবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন রোজিনা। তবে তার অভিযোগ, রতন দেব পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে একপর্যায়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রতন দেবের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। নিরাপদে দেশে ফেরাতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা
বর্তমানে দেশে ফিরে পরিবারের কাছে যাওয়ার জন্য আকুল হয়ে উঠেছেন রোজিনা আক্তার। তাকে দ্রুত নিরাপদে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে তার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার ও স্বজনরা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন