মোঃ খাইরুল ইসলামনিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও শিল্পকারখানার মালিক-শ্রমিকরা। দেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এ উপজেলায় দিনে-রাতে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে মৌচাক, তেলিরচালা ও চন্দ্রা এলাকার গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল কারখানাগুলোর চাহিদাই ১২০ মেগাওয়াটের বেশি। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও গ্যাস সংকটের কারণে বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ মেগাওয়াট। ফলে শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য, ব্যবসা ও নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কালিয়াকৈর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে রেশনিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
হাসপাতালেও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব
বিদ্যুৎ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে কালিয়াকৈর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সোমবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী ও স্বজনরা তীব্র গরমে হাতপাখা ও কাগজ দিয়ে বাতাস করছেন।
হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদিয়া তানসিম আক্তার মুনমুন জানান, দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। গর্ভবতী নারীদের সিজারিয়ান অপারেশন, নেবুলাইজার, আইসিইউর অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, এক্স-রে ও প্যাথলজি পরীক্ষার কাজেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে জেনারেটরও দীর্ঘ সময় চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
উৎপাদন কমেছে পোশাক কারখানায়, বিদ্যুৎ সংকটে মৌচাক ও চন্দ্রা এলাকার শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। স্থানীয় বিজিএমইএ নেতারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে লাখ লাখ ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
কৃষি ও ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব শুধু শিল্পকারখানা নয়, বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিখাতও। গভীর নলকূপ ও সেচপাম্প বন্ধ থাকায় আমন চাষিরা সময়মতো জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। পাশাপাশি বাসাবাড়িতে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট। বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কম্পিউটার ল্যাব ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। রাতে পর্যাপ্ত আলোর অভাবে চুরি-ছিনতাই বেড়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত সমাধানের দাবি দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে অতিষ্ঠ হয়ে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছে কালিয়াকৈর উপজেলা নাগরিক কমিটি ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন। তাদের দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্থানীয় সংগঠনগুলোর নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সংকটের সমাধান না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি, এমনকি সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচিও দেওয়া হতে পারে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন