নিজস্ব প্রতিবেদক:গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ভার্দার্তী এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে বন্ধ থাকা একটি চলাচলের রাস্তা অবশেষে স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় দুই দশক আগে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত ওই রাস্তার একটি অংশে বাথরুম নির্মাণ করে পথটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাথরুমের বর্জ্য রাস্তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চলাচলের পরিবেশও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। মুসল্লিদেরও মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হতো।
এলাকাবাসী জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া রাস্তার পেছনে বসবাসকারী ২০টিরও বেশি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার কারণে ভোগান্তিতে ছিল। এমনকি কোনো পরিবারের সদস্য মারা গেলে মরদেহ বের করে কবরস্থানে নেওয়ার ক্ষেত্রেও চরম দুর্ভোগে পড়তে হতো স্বজনদের। সরু ও বাধাগ্রস্ত পথের কারণে প্রায় দুই মাইল ঘুরে বাইপাস সড়ক দিয়ে মরদেহ নিয়ে যেতে হতো বলে জানান স্থানীয়রা তাদের ভাষ্য, মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় জীবিত অবস্থায় যেমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, তেমনি মৃত্যুর পরও স্বজনদের শেষযাত্রায় ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মো. শাহাবুদ্দিন দেওয়ান ওই স্থানে বাথরুম নির্মাণ করে রাস্তাটি দীর্ঘদিন বন্ধ রেখেছিলেন। তবে এ বিষয়ে শাহাবুদ্দিন দেওয়ানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় জনগণ রাস্তা ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি করা ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনার পর এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাস্তাটি পুনরায় সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচল, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং মুসল্লিদের মসজিদে যাতায়াতের সুবিধার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। রাস্তা পুনরায় চালু হওয়ায় দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন তারা।
ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ। এদিকে রাস্তা উন্মুক্ত করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফরিদ আহমেদকে নিয়ে বিভিন্ন আইডি থেকে কুরুচিপূর্ণ ও বিতর্কিত মন্তব্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তা উন্মুক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফরিদ আহমেদকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ধরনের অপপ্রচার বা ব্যক্তিগত আক্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সঠিক তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীলভাবে বক্তব্য ও তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন