মোছা. পারভীন আক্তারনিজস্ব প্রতিবেদক
জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাঞ্চল্যকর চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ৭ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৭ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে তদন্ত ও ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৭ আসামি, মাদারগঞ্জ উপজেলার গজরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে মো. সাখাওয়াত (৩২), মো. তাইজলের ছেলে মো. সোহেল (৩০), মো. আছর শেখের ছেলে মো. আল আমিন (৩১), মৃত ভোলার ছেলে মো. সাদ্দাম (৩১), মো. কামালের ছেলে মো. উজ্জ্বল (৩১), সোজা মিয়ার ছেলে অন্তর (৩১) ও শহিদুলের ছেলে ফয়জুর (৩৩)
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ৭ আসামি একই গ্রামের মৃত গিয়াসের ছেলে মো. চান মিয়া (৫১), মো. আছর শেখের ছেলে মো. জিয়ার (৪৬), মৃত ভোলার ছেলে মো. শাহ আলম (৪৬), রফিজলের ছেলে মো. কাউসার (৩০), মো. তারা মিয়ার ছেলে মো. রিফাত (৩২), মো. আব্বাস আলীর ছেলে মো. সুমন (৩২) ও মৃত নাটু শেখের ছেলে মো. মুস্তফা (৫০)।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. দিদারুল ইসলাম দিদার জানান, ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল মাদারগঞ্জের গজরিয়া গ্রামের শিক্ষার্থী মহর আলী ও তাঁর ভাতিজা স্বপন মিয়াকে কৌশলে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিখোঁজের তিন দিন পর একটি পাটক্ষেত থেকে তাঁদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত স্বপন মিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ১৯ মে মাদারগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত মহর আলী ছিলেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং তাঁর ভাতিজা স্বপন মিয়া দশম শ্রেণিতে পড়তেন।
দীর্ঘ প্রায় এক দশক তদন্ত ও ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৭ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনরা। একই সঙ্গে তাঁরা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন