মোঃ খাইরুল ইসলাম
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নয়নপুর-বরমী আঞ্চলিক সড়কের সংস্কারকাজ নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা সম্পন্ন হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির প্রতিবাদে সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে অসমাপ্ত সড়কের বড় বড় গর্তে ধানগাছ রোপণ করে অভিনব কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, নয়নপুর বাজার থেকে সিসি ডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ চলমান। এর মধ্যে নয়নপুর বাজারসংলগ্ন প্রায় ২৬০ মিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সড়কের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইট, পাথর ও রড। বিভিন্ন স্থানের বড় বড় গর্তে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় রাস্তা কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে মোটরসাইকেল, রিকশা, অটোরিকশা ও পথচারীরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নয়নপুর, বরমী ও মাওনা এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি। প্রতিদিন কয়েক হাজার শিল্পশ্রমিক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং জরুরি রোগী এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “বৃষ্টির পর রাস্তা আর গর্ত আলাদা করে বোঝার উপায় থাকে না। এতে মানুষের চলাচলের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পল্লী চিকিৎসক শামসুল ইসলাম তারেক বলেন, “মাত্র ২৬০ মিটার রাস্তার কাজ অসমাপ্ত থাকায় পুরো এলাকার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। রোগী, গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও এখন অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
কারখানার শ্রমিক রুবেল মিয়া ও অটোরিকশাচালক আব্দুল কাদের জানান, সড়কের ওপর নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় সবসময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, কয়েক সপ্তাহ আগেও অল্পসংখ্যক শ্রমিক কাজ করলেও বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকেই এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ বাস্তবায়ন করছে শাম্মী এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পের আওতায় ২৬০ মিটার আরসিসি ঢালাই নির্মাণের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ হাসান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে, যাতে জনদুর্ভোগের দ্রুত অবসান ঘটে।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ ঝুলে থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের একটাই দাবি অবিলম্বে সড়কের অসমাপ্ত কাজ শেষ করে নিরাপদ ও স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করা হোক।