নয়ন হোসেনঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাঁর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে বইছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও উল্লাসে মেতে ওঠেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তৃণমূল থেকে উঠে এসে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়াকে নিজেদের জন্য গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রপতি ছাত্রনেতা থেকে শিক্ষক, পৌর চেয়ারম্যান থেকে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী থেকে বিএনপির মহাসচিবদীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৯২ সালে দায়িত্ব পান ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতির।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকারের কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তৃণমূলের রাজনীতি থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা মির্জা ফখরুল রাজনীতিতে এসে ধাপে ধাপে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছেন। দলের মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটে নেতৃত্ব দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়াকে তাঁর রাজনৈতিক ত্যাগ, নিষ্ঠা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন তাঁরা।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে গর্ব ও আনন্দের পাশাপাশি তাঁর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন